
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৮

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে এক নতুন ও বিতর্কিত পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এমন কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে নদীমাতৃক ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার আওতায় কিছু সীমান্ত এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েনের ধারণা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এমন পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে কিনা, তা নিয়ে কাজ চলছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ -এর নির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বেশিরভাগ অংশেই ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা এখনো দুর্গম হওয়ায় সুরক্ষাহীন রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ফাঁকা এলাকাই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে বিকল্প নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।