
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৮

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীতে বহু ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণ, শান্তি ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ধর্মের মূল লক্ষ্য মানুষকে সৎ ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করা।
তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণী হত্যা না করা, চুরি থেকে বিরত থাকা, ব্যভিচার এড়ানো, মিথ্যা না বলা এবং মাদক গ্রহণ থেকে দূরে থাকা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসব নৈতিক নির্দেশনা শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এগুলো অনুসরণ করলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথ সহজ হয়।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ পরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈঠকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, সেটাই সরকারের মূল অঙ্গীকার। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশ স্বাধীন করেছিল। সেই চেতনা ধরে রেখেই একটি নিরাপদ, সহনশীল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।