প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে দুটি নৌকাসহ সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নদীর মোহনা এলাকায় মাছ ধরার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন টেকনাফ সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহমান, আবদুল মতলব, গুরা মিয়া ও মো. হাসান এবং শাহপরীর দ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার আহমদ আলী, নুরুল আবছার ও আবদুর রহিম। তারা প্রতিদিনের মতো নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, নাফ নদীতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে গেলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাবরাং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, সকালে মাছ ধরতে গিয়ে তার এলাকার চারজনসহ মোট সাতজন জেলে নৌকাসহ অপহৃত হন। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে নদীতে মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে এবং জেলে পরিবারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়বে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, জেলেদের অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর মতে, নাফ নদীতে আরাকান আর্মির তৎপরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী জেলেরা নিয়মিতভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
বিজিবি ও ট্রলার মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে মোট ৩২৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে ১৮৯ জনকে বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনও অনেক জেলে ও ট্রলার তাদের হেফাজতে রয়েছে।
এ অবস্থায় সীমান্ত নদীতে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায়।