প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৭

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া এনটিআরসিএ নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা ২০০৬ সালে এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য ২০২২ সালে এনটিআরসিএ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে এনটিআরসিএ জানায়, উক্ত সনদটি বৈধ নয় এবং এটি জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়।
এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার নিয়োগ বিধিসম্মত নয় এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন। একই সঙ্গে ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে সনদ পেয়েছেন। তবে অডিট প্রতিবেদনে কেন সেটিকে জাল বলা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সনদটি জাল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কপি হাতে পাননি। তিনি কাগজপত্র পাওয়ার পর বিস্তারিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।