প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১০

জাতিসংঘের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের রোহিঙ্গা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গাদের জন্য ৯৬ মিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য ৩৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই তথ্য প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ বুধবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে শেয়ার করেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয় এবং তাদের দ্রুত রাখাইনে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।
ড. ইউনূস আরও বলেন, গণহত্যা শুরু হওয়ার আট বছর পরও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতি উদ্বেগজনক। তিনি আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য তৎপর হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে সীমিত তহবিল ও রাজনৈতিক সহায়তার অভাবে রোহিঙ্গাদের জীবনমান দ্রুত উন্নত হচ্ছে না।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান কেবল রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা দ্বারা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একজোট হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এই সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অনুদান এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
সংবাদটি রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করছে, যা জাতিসংঘ ও অংশীদার দেশগুলোর তৎপরতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করছে।