
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৯

রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং শহর-গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি, ফলে ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
সরকারি হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হলেও কৃষি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নেই ঢাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এগুলো চালু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার আশা করছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। সাময়িক এই দুর্ভোগের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সরকার।