দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নেই এ ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গবাদিপশু পালনকারী কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, দাউদপুরে অফিস অবস্থিত হওয়ায় অন্যান্য ইউনিয়নে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মানিক মিয়াকে। লাউগাড়ী, দাউদপুর, হালুয়াঘাট, পাটনিপাড়া ও ডিঘিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি ওঠা, জ্বর, খাওয়ায় অনীহা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেক গরু স্বল্প সময়ের মধ্যেই মারা যাচ্ছে, ফলে প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
দাউদপুর ইউনিয়নের লাউগাড়ি গ্রামের জামিরুল ইসলাম, কুমারপাড়া গ্রামের দিপু কুমার, ডিঘিপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ, লিটন মিয়া এবং জবা বেগমের একটি করে গরু ইতোমধ্যে মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গরুগুলো মারা যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষক ফটিক মিয়া জানান, গরুর শরীরে গুটি ও জ্বর দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়া হলেও অন্য গরু নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান হালুয়াঘাট গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, লাম্পি স্কিন রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখা, খামার পরিষ্কার রাখা এবং মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।