
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তা যাদব অর্জন করেছেন অনন্য সাফল্য। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর এই অর্জন চা-বাগানবাসীসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলার মানুষের জন্য গর্বের।
শান্তা যাদব হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Master of Medical Sciences in Global Health Delivery (MMSc-GHD) প্রোগ্রামে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। এ জন্য তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় হার্ভার্ডকেই বেছে নেন তিনি।
লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও রিনা যাদবের মেয়ে শান্তার শৈশব কেটেছে চা-বাগানের পরিবেশে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতা তাঁর শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতা তাঁকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন শান্তা। পরে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে পাবলিক হেলথ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে মেধা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের গুণও বিকশিত হয়।

শৈশব থেকেই চা-বাগানের মানুষের জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন শান্তা। শিক্ষা উপকরণের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার নানা সমস্যা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এসব অভিজ্ঞতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
হার্ভার্ডে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে নিজের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি।
চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে হার্ভার্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর এই পথচলা শুধু শান্তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে। তাঁর অর্জনে স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভানুধ্যায়ীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শেষে শান্তা দেশের প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।