প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩২

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী ও পরস্পরের মামাতো ভাই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাদক সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুই যুবক পাশের ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখা হয়। বের হওয়ার আগে বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে সম্ভাব্য আঙুলের ছাপ নষ্ট হয়ে যায় বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন। হত্যার পর বাড়িতে পাওয়া একটি অলংকার আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় স্বর্ণের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও সম্পৃক্ততার যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তারের পর তা আরও জোরালো হয় বলে দাবি পুলিশের।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্থানীয় সোর্স ও নিহত পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে একজন পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগান এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে পাওয়া আলামত ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।