প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬

ঝালকাঠিতে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, পরের ঘণ্টাতেই চলে যাচ্ছে—এমন রোটেশনভিত্তিক লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার মানুষ। শ্রাবণের শেষভাগের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দিন-রাত ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে গরম থেকে স্বস্তি পেতে ঘরের বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবাতেও। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে। জেনারেটর চালু রাখতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। একইভাবে ফ্রিজ, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ারনির্ভর ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
শিল্পকারখানায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন বন্ধ হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করলেও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকোর আওতায় গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সোয়া দুই লাখ। জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর আওতাধীন জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় দৈনিক চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে বরিশাল থেকে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার বড় ব্যবধানের কারণে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনেও রয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছের ডালপালা তারের ওপর পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সময় পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রোটেশনভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সঙ্গে আকস্মিক বিভ্রাট যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং কমে আসবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামানও জানিয়েছেন, পিক আওয়ারে চাহিদা ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াটে পৌঁছালেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের দাবি, ঝালকাঠির শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝড়-বৃষ্টিতে লাইন বিচ্ছিন্নতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত না হলে জেলার শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।