
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চা দোকানি ফারুক শেখকে হত্যার ঘটনায় তাঁর আপন ছোট ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা বাজার সংলগ্ন ইছাক মিয়ার পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফারুক শেখকে হত্যা করা হয়। নিহত ফারুক (৪৮) স্থানীয় খালেক শেখের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখ এবং দোকানের দুই কর্মচারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখ (৪০) এবং দোকানের কর্মচারী দৌলতদিয়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) ও বাবু শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩০)। শনিবার দিবাগত রাতে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে বারেক পারিবারিক সম্পত্তি ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বড় ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ থাকার কথা জানান। কয়েক মাস আগে দুটি ধারালো দা কেনার পর শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে বসে দুই কর্মচারীর সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলেও তিনি স্বীকার করেন।

পুলিশ আরও জানায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে দুই কর্মচারীকে সাময়িক খরচ হিসেবে ১৭০০ টাকা দেন বারেক। শনিবার দুপুরে তাদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ফারুককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পরে অস্ত্র দুটি বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারের কাছে ময়লার স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানায়।
রোববার বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সামসুল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশ্য দিনের বেলায় এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার পেছনে পারিবারিক বিরোধসহ অন্যান্য কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।