প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৫

দীর্ঘ ছয় মাস পর অবশেষে খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো। শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়।
সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এই দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর খোলা হওয়ায় মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মসজিদ প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার দানবাক্সগুলো থেকে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব টাকা গণনার কাজ চলছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় এবার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায় এবং গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গিয়েছিল।
পাগলা মসজিদ শুধু মুসলমানদের নয়, সব ধর্মের মানুষের কাছেই একটি বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে দান ও মানত করে থাকেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, আন্তরিক নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। রোগমুক্তি, উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা সন্তান লাভের মতো নানা মানত নিয়ে মানুষ এখানে আসেন।
অনেকে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি, গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সামগ্রীও দান করেন। ফলে প্রতিবার দানবাক্স খোলার সময় শুধু অর্থ নয়, নানা ধরনের মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।

এদিকে বিপুল পরিমাণ দান জমা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকা গণনা শেষ হলে এবার পাগলা মসজিদে নতুন দানের রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাই বেশি।