প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১৩

মাছ মানবদেহের জন্য অন্যতম পুষ্টিকর খাদ্য। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় নিয়মিত মাছ খাওয়া হৃদ্স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এর উৎপাদন পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বা দূষিত জলাশয়ে চাষ করা মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই মাছ কেনার সময় উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে কম দামে বিক্রি হওয়া কিছু খামারের তেলাপিয়া মাছ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দূষিত পরিবেশে উৎপাদিত তেলাপিয়ার শরীরে আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু জমা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
গবেষকদের মতে, কিছু অনিয়ন্ত্রিত খামারে মাছ দ্রুত বড় করার জন্য নিম্নমানের খাদ্য, প্রাণীর বর্জ্য, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান মাছের শরীরে থেকে গেলে তা মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া মাছের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। কিছু গবেষণায় ডাইঅক্সিনসহ পরিবেশ দূষণজনিত ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব তেলাপিয়া মাছ ক্ষতিকর নয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও নিরাপদভাবে উৎপাদিত তেলাপিয়া খাওয়ার বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।
নিরাপদ থাকতে বিশ্বস্ত উৎস থেকে মাছ কেনা, অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙের মাছ এড়িয়ে চলা এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বেগের বিষয় তেলাপিয়া মাছ নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর চাষব্যবস্থা। তাই সচেতনভাবে নিরাপদ উৎসের মাছ নির্বাচন করলে তেলাপিয়াসহ অন্যান্য মাছের পুষ্টিগুণ নিরাপদভাবেই উপভোগ করা সম্ভব।