কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী এলাকা থেকে আটক হওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি জেলে তিন দিন পর আরাকান আর্মির হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তারা শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌঘাট দিয়ে দেশে ফিরে আসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেন্টমার্টিন এলাকা থেকে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ ১৪ জন জেলেকে আটক করে আরাকান আর্মির সদস্যরা।
পরে মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ানমারের মংডু শহরের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি ঘাঁটি থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। দেশে ফিরে আসা জেলেরা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, ফরিদ হোসেন, রবিউল হাসান, আবুল কালাম, মীর কাশেম আলী, গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, হোসেন আহম্মদ, মলা কালু মিয়া, আবু তাহের, আবদুল খালেক, জাবের মিয়া ও রহিম উল্লাহ।
জেলে সালাউদ্দিন জানান, জোয়ার-ভাটার স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে তারা ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এরপর আরাকান আর্মি তাদের আটক করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। তিন দিন পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জেলেরা ফিরে আসায় স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তির জন্য তারা টানা তিন দিন দোয়া করেছেন।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আটক হওয়া আরও অনেক বাংলাদেশি জেলে এখনো আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছেন। যদিও এর আগে বিজিবির মাধ্যমে ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে, তবুও শতাধিক জেলে এখনো আটক থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী জেলেপল্লীগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।