বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ঝালকাঠির রাজাপুরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে রাজাপুর উপজেলা শহরের মায়ের দোয়া কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুম মোল্লা এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া সুমন। দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সাবেক ছাত্র নেতা গোলাম আজম সৈকত।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শহীদুল ইসলাম নয়ন, রুবেল তালুকদার, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক চাষী নান্না খলিফা, উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুয়াল সায়েম চান, কৃষকদলের সভাপতি ফারুক মোল্লা, মঠবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা অপু খান, মালয়েশিয়া বিএনপি শাখার সহ-সভাপতি গোলাম কবির, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত সিকদার, রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কিরণসহ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল ও মহিলাদলের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম আজম সৈকত বলেন, “দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী দল আন্দোলন-সংগ্রামে রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মাঠে ছিলেন, রক্ত–ঘাম দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এই সংগ্রামের পথে অনেকে গুম হয়েছেন, অনেকে খুন হয়েছেন, বহু নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ত্যাগী পরিবার হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার।”
তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাভোগ ও নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়েছে। আজ তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আমাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন—আমি আপনাদের কাছে তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাই। আপনারা সবাই দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য হাত তুলবেন, দোয়া করবেন।”
জিয়া পরিবারের ত্যাগের প্রসঙ্গে সৈকত বলেন, “জিয়া পরিবারের ত্যাগ আমরা সবাই জানি। একজন সন্তান মারা গেছেন—মায়ের বুকে ফিরে আসতে পারেননি। আরেক সন্তান তারেক রহমান ১৭ বছর ধরে জীবিত থেকেও মায়ের কাছ থেকে দূরে প্রবাসে। তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন—এই প্রত্যাশা করি। আপনারা তার, বেগম খালেদা জিয়ার এবং জিয়া পরিবারের জন্য দোয়া করবেন—অভিনন্দন জানাবেন তাদের সংগ্রামকে।”
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং উপস্থিতদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।