প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:১২
সিলেটের বাজারে সবজির দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে সবজির দাম এতটাই বেড়েছে যে, ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলার বিভিন্ন বাজারে চলছে জেলা প্রশাসনের ৯ সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটির তদারকি, যা প্রতিদিন বাজার মনিটরিং ও অভিযান চালাচ্ছে। তবে সত্ত্বেও বাজারে দামে কোনো স্থিতিশীলতা আসেনি। এই সময়ে ডিমের দামেও বৃদ্ধি ঘটেছে; প্রতি হালির দাম ২ টাকার পরিবর্তে ৬ টাকা বেড়ে গেছে। কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ভোক্তাদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন শুল্ককর কমানো। কিন্তু এর সুফল ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এখনও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চলমান, যা দাম বৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি গত ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কমিটি কৃষি, প্রাণি সম্পদ, খাদ্য, ও মৎস্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সিলেটের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্যাকেট ময়দার দাম ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৮১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি এবং পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। তবে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে, সিলেটের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবুল সালেহ মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সিলেটের সবজি বাজারের অবস্থা অনেকটা আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে জুন মাসের বন্যার পর থেকে। স্থানীয় সবজির সরবরাহ বাড়াতে আরো ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থার মধ্যে ভোক্তাদের জন্য সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে।