প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৪, ২:১৭
বরিশাল বিভাগীয় সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় শুরুতে বক্তব্য রাখেন সাত পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ৬ দিনের কর্মবিরতি শেষে পুলিশ সদস্যরা কর্মে ফিরে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা গতকাল কর্মে ফিরে আসার পর আমাদের অন্যান্য বাহিনীর ভাইদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২০ জুলাই থেকে সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে জানিয়ে একটি পরিসংখ্যানের বরাতে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বরিশাল বিভাগে আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি গুলিও ফায়ার করতে হয়নি। আমাদের বরিশাল বিভাগে ৫০ টি থানা রয়েছে, যার একটিতেও আক্রমণ হয়নি। আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা অক্ষত ছিল, একটি অস্ত্রও হারায়নি। সার্বিক বিবেচনায় আমি মনে করি দেশের অন্যান্য বিভাগের থেকে বরিশাল অনেক ভালো ছিল। আর এজন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই বিভাগে আমাদের কারও মধ্যে যেন কোন দূরত্ব না থাকে। আমরা যেন সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি এবং এখানে যেন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি যেখানে সব দল, মতের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারেন।
তিনি বলেন, পুলিশ মাঠে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বরিশাল বিভাগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটিভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এখানে প্যানিক হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, যা নিয়ে আমরা খুব বেশি চিন্তিত হবো, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা এখানে যারা রয়েছেন তারাও মোটামুটি নিরাপদে আছেন।
এখন থেকে আমাদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ প্রেট্রোল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এলাকা ভাগ করে নেয়া হবে, যাতে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় পেট্রোল জারি থাকে।
রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গের সাথে একসাথে বসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা পেতে চাই, যাতে আমাদের এলাকায় কোন অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না ঘটে এবং সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এসময় তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা জানিয়ে তাদের অহেতুক ভীতিতে না ভোগার আহ্বান জানান। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ জনতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি। পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনীতির চাকা সবসময় সচল রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে অনতিবিলম্বে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যোগদানের জন্যও বলেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়।
তিনি বলেন, আমরা যেন আইন কোনোভাবেই নিজের হাতে তুলে না নেই, কারণ আমরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই, সবাই আইনের মধ্যে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্য কেউ ঢুকে গিয়ে যাচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখার কথা জানিয়ে বলেন, এরা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে শিক্ষার্থীদেরই হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে সভায় ৬ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল আজিম, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইলিয়াস শরিফ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জিহাদুল কবির, কোস্টগার্ডের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।