প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:৩৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা সুদ দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়। পরে না দিতে পারলে মাঠের জমি, গরু এমনকি বসতভিটা পর্যন্ত লিখে দিতে হয় সুদ ব্যবসায়ীদের নামে। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এরই মধ্যে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। সুদের ব্যবসা কয়েক বছর ধরে চলছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে।সমাজের কিছু লোক মুখোশধারীরা সরাইল
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অনেক মানুষের সাথে। সম্পর্ক করে নিজের নাম আরাল রেখে। অন্যের নামে স্ট্যাম্প করে এখন চলছে অর্থলোগ্নীর রমরমা ব্যবসা। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলাকার ভদ্রবেশী কিছু মানুষ। সমাজের বিভিন্ন কাজে তাদের বিচরণ রয়েছে তবে রাতে নীরবে করছে সুদের ব্যবসা। জানা যায়,অনেক আগে থেকেই গ্রামসহ হাওর অঞ্চলে সুদের ব্যবসা করে আসছে সুদখোর মহাজনরা। এরই কারণে সমাজ এবং পরিবারের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ আমলে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে বাংলার কৃষকদেরকে সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে রক্ষা করেছিলেন। পরে আবার গোপনে সুদখোর মহাজনরা এ ঘৃণ্য ব্যবসা শুরু করে।সরাইল উপজেলা বর্তমানে এ ব্যবসা জমজমাট। এরা মানুষের কাছ থেকে অস্বাভাবিক চড়া সুদ আদায় করছে। এদের খপ্পরে পড়ে মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। এছাড়াও এনজিওগুলো ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন ব্যাংকের শাখা আছে।
সরেজমিনে জানাযায়, সরাইল উপজেলা ৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে ঘঠিত। কালিকচ্চ গ্রামসহ বাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকানে বসে তারা এ সুদে লগ্নী ব্যবসা করছে। সরাইল সদর বাজারে বিভিন্ন ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে হাজারে প্রতিদিন একশত টাকা দিতে হয়। অরুয়াইল বাজারে চলছে রমরমা ব্যবসা। এ থেকে আরো আছে পানিশ্বর বাজার এলাকায় লাখে মাসে ৫ হাজার, শাহবাজপুর বাজারে আছে এ লগ্নী টাকার খেলা। শাহজাদাপুর গ্রামে তারা মাসিক হিসাবে হাজারে একশো টাকা।
পাকশিমুল এলাকায় ধানের উপরে লগ্নী হাজারে দেড়মন ধান। চুন্টা এলাকা জুড়ে চলছে এর নামে প্রকাশ্যভাবে অর্থ লেনদেন। সময় মতো লগ্নী টাকা দিতে না পারলে এলাকায় বিভিন্ন সময় দাঙ্গার মতো ঘটনা ঘটে। মারামারি পরে হয় মামলা।এসব প্রাতিষ্ঠানিক ঋণদান সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি কেন্দ্রিক ঋণ দান ব্যবসা চলছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, সুদখোর মহাজনরা ঋণ দান করে মাসিক শতকরা ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। এরা পাঁচ দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ /চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। সরাইল উচালিয়াপাড়া মো. জহিরুল ইসলাম রিপন বলেন, শেষ পর্যন্ত কাকার বুইন পুত তাহলে এখন এই ব্যবসা শুরু করলো।
শেখ মাসুম বলেন,ভাই আমার কাছে অনেক সুদখোর নাম আছে তাদের কারণে অনেক লোক বাড়ি-ঘর ছাড়া। সরাইল সদরের দিলু মিয়া বলেন, এখন সুদের সাথে তারা অনেক ভাবে কাগজ করে।ঋণ দান কালে এরা ঋণ গ্রহণকারীর কাছ থেকে ব্যাংকের খালি পাতার চেকে সই নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে থাকে। টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ব্ল্যাংক চেকের পাতায় ইচ্ছামত অংক বসিয়ে নেয়। তারপর মামলা মোকদ্দমার ভয়
দেখিয়ে চাপ দিতে থাকে। কোনো কোনো মহাজন আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। এরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে পারে না। এস এম আলী আমজাদ হৃদয় বলেন,সূরা বাকারার ২৭৫-২৭৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'যারা সুদ খায় তারা জিনে ধরা পাগল ব্যক্তির মতো হাশরের মাঠে দাঁড়াবে। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে, ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন।
অরুয়াইল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন,শুধু ষ্ট্যাম্পে লিখে নয়, অলিখিত ষ্ট্যাম্পে ও ব্ল্যাংক চেকে স্বাক্ষর রেখে কোন কোন জায়গায় জমজমাট সুদের ব্যবসা চলছে!সরাইল কালিকচ্ছ এলাকার মো. আরিফুল ইসলাম সুমন অনি একজন সাংবাদিক তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন,আমাদের এখানে পাড়া-মহল্লায় দিন দিন মহাজনি সুদের ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মজার বিষয় হচ্ছে কিছু শিক্ষিত মানুষ ইদানিং এ সুদের ব্যবসায় জড়িয়েছে, অথচ
তারাই আবার নিজেকে সমাজের সুশীল মানুষ দাবি করে। মহাজনি সুদের কারণে অনেক মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনেকে পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসন কাজ করা উচিত।ভুক্তভোগী ও এলাকা বাসীর কাছ থেকে জানা যায়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরাইল উপজেলা সব এলাকায় জমজমাটভাবে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মহাজনরাসহ হাজারো সুদখোর গোটা উপজেলা ব্যাপী দাপিয়ে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।এছাড়া বিভিন্ন ভুঁইফোড় সমিতি ও এনজিওর নামে দাদন ব্যবসা চালিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ( ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন,সুদ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়ার কথাটি শুনেছি। এছাড়া সুদ ব্যবসার টাকার জন্য কারও বাড়ি, এমনকি ব্যাংকে চেক রেখেছে- এমন ঘটনা যদি কেউ থানায় অভিযোগ করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূইঁয়া বলেন, 'এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'