প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২১, ৩:১৬
বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে জেলেরা ইলিশ শিকারে সমুদ্রে যাত্রা করে গেছে। সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ ধরে নিয়ে মৎস্যকন্দরে ফিরে আসবে। ফিরে আসবে সু-দিন। ঘুচবে অবাব অনটন। কর্ম চাঞ্চলতা মৎস্যজীবিদের মাঝে। এমন প্রত্যাশা সকলের মাঝে।
তবে এরই মাঝে লঘুচাপ সৃস্টি হওয়ায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঝড়ো আবহাওয়ার মাঝেও নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার আগেই অনেক ট্রলার সমুদ্রে মাছ শিকারে নেমেছে। অনেকেই বৈরী আবহাওয়া সৃস্টি হওয়ায় তীরে ফিরে এসেছে।৬৫ দিনের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর নতুন আশায় গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারে সারি বেধেঁ সমুদ্রে যাবার উৎসাহ উদ্দিপনার মাঝে বাধঁ সেজেছে আবহাওয়া।
তারপরও এক মুহুর্তের জন্যও অপেক্ষা করতে রাজি নয় জেলো। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শুক্রবার রাত বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ইলিশ শিকারে সমুদ্রে যাত্রার করবে শত শত মাছ ধরা ট্রলার। এর ফলে সরগরম হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী উপকূলীয় জেলে পল্লী ও মৎস্যবন্দর গুলো।
স্থানীয় ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষনে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫ দিনের মৎস্য আহরনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য বিভাগ। বছর জুড়ে ইলিশের আকাল আর করোনার প্রার্দুভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরে দখিনের জেলেরা। এছাড়া এসময়ে সরকার প্রদেয় অপ্রতুল খাদ্য সহায়তা নিয়েও রয়েছে জেলেদের ক্ষোভ। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জালে ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।
ফের প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে আসবে মৎস্যবন্দর আলীপুর মহিপুরসহ উপকুলীয় এলাকার আড়ৎগুলোতে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা বরফকল গুলোও বরফ উৎপাদনের জন্য চালু করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে অনেক জেলেরাই মৎস্য অফিস ও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সমুদ্রে মাছ শিকার করেছে। অবরোধকালীন সময়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার নজিরও রয়েছে একাধিক।
জেলে মাঝি মোশাররফ বলেন, ১৫ দিন আগেই জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজ শেষে হয়েছে। ট্রলারে তৈল, বরফ ও খাদ্যসামগ্রী তোলা হয়েছে। তারা মধ্য রাতেই সাগরে মাছ শিকারে যাবেন বলে তিনি জানান। তবে বৈরী আবহাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি মো.নিজাম শেখ বলেন, প্রজনন মৌসুমের ৬৫ দিনে অবরোধকালীন সময় সরকার ৫৬ কেজি চাল দিয়েছে। এতে জেলেদের সংসার চলে না। তাই অবরোধ চলাকালিন সময় জেলেদের রেশণ কার্ড চালুর দাবী জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় শতভাগ অবরোধ সফল করতে মৎস্য বিভাগ ব্যর্থ হবে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত জেলেকে ৫৬ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ৩০ কেজি করে ওইসব জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হবে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ বলেন, সরকারের নির্দেশক্রমে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হবে শুক্রবার মধ্য রাতে। আমরা আশাবাদী জেলেদের জালে এবছর প্রচুর বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়বে। তাই জেলেদের নিরাপদ মৎস্য শিকার নিশ্চিত করতে র্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী জলদস্যু দমনে কাজ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।