আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় এবং জাহান্নামের সব কয়টি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের সব কয়টি দরজা খুলে দেওয়া হয়। একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে কল্যাণকামী, অগ্রসর হও এবং হে মন্দপ্রত্যাশী, সংযত হও। (রমজানের) প্রতি রাতে আল্লাহ কিছু জাহান্নামিকে মুক্তি দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪২)
আলোচ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে দোয়া কবুল ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করা যায় এমন কাজে মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলা প্রতি ইফতারের সময় অর্থাৎ প্রতি রাতে বেশসংখ্যক লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪৩)
সুতরাং মুমিনের উচিত জাহান্নাম থেকে মুক্তির আমলগুলো বেশি বেশি করা। হাদিসে বর্ণিত জাহান্নাম থেকে বাঁচার আটটি আমল বর্ণনা করা হলো—
১. নিষ্ঠাপূর্ণ ঈমান : মুমিন যখন তার ঈমানের ব্যাপারে নিষ্ঠা অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বলে এবং মারা যায়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪২২)
২. যথাযথভাবে রোজা পালন করা : যথাযথভাবে রোজা পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ, যার মাধ্যমে বান্দা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করে।’ (আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ৮৩৮৬)
৩. নামাজে যত্নশীল হওয়া : ঈমানের পর নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। নামাজের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ নামাজি ব্যক্তির জীবন-জীবিকা প্রশস্ত করে দেন এবং মানবিক ত্রুটিমুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাকে দুটি মুক্তি দান করবেন : জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নিফাক থেকে মুক্তি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১)