
প্রকাশ: ৪ মে ২০২০, ৭:৪

ইংরেজি আধুনিক সাহিত্যের জনক জজ বার্নার্ড শ একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, "যদি মহানবী (সা:)-এর মত কোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি আধুনিক বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারতেন তবে তিনি বর্তমান জগতের সমস্যাবলীর সকল সমাধান টেনে দিতেন। যিনি মানুষের বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা আর সুখ-শান্তি এনে দিতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হতেন।"
(I believe that if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving its problems in a way that would bring it the much-needed peace and happiness.)
২) “কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না।“ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৬৫)
৩) মহামারি অঞ্চলে প্রবেশ করা কিংবা মৃত্যুর ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। (আউনুল মাবুদ, ৮ম খণ্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা।)
২) হিজরি ১৮ সালে মুসলিমরা বাইজেন্টাইন রোমানদের সাথে লড়াই করছিল। উমর ইবন আল-খাত্তাব (রা.) তখন আমিরুল মুমিনিন, খিলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা। সেই সময় ইমাউস প্লেগ নামে রোগের প্রাদুর্ভাব হয় সিরিয়ায়। প্রায় ২৫ হাজার মুসলিম এতে শহিদ হয়েছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.), আবু উবাদাহ আমির ইবন আল-জাররাহ’র (রা.) মতো বিখ্যাত সাহাবিরাও ছিলেন। অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবির ইন্তেকালের পর প্লেগ উপদ্রুত জনপদে মুসলিমদের সেনাপ্রধান আমর ইবনুল আস (রা.) সবাইকে ডেকে বললেন, '‘মনে রাখবে, প্লেগ আগুনের মতো। সবাই একসঙ্গে থাকলে তা সবাইকে ধ্বংস করে দেবে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে সবাইকে ধ্বংস করতে পারবে না।'’ তিনি এ মহামারি মোকাবেলায় সবাইকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে নির্দেশ দেন, “পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড়ে চলে যাও।“ তিনি সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং জারি করেন। যাতে কেউ কারও সঙ্গে মিশতে পারবে না। এভাবে আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে তারা দীর্ঘ দিন পাহাড়ে আইসোলেশনে থাকেন এবং সবাই মহামারী থেকে মুক্তি পেলেন। (ইবনে হাজর আসকালানী (র.) মহামারি সম্পর্কে তার অনবদ্য ‘বজলুল মাউন ফি ফাজলিত তাউন’ গ্রন্থে এ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।)
যেসব ব্যক্তিকে আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয়, কিন্তু সে সুস্থ হতে আবার নাও পারে, তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে কিন্তু তার মধ্যে কোন ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়নি- এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। অর্থাৎ যারা এখনো অসুস্থ না এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আর কোয়ারেন্টিন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য। (BBC বাংলা)
বুখারী শরীফের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার ফতহুল বারী শরহে বুখারী এর রচয়িতা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লেখেন, ধৈর্য সহকারে, সওয়াবের আশায় ও আল্লাহর উপর ভরসা- এই তিনটি বিষয় ধারণ করে যে ব্যক্তি মহামারীর সময় ঘরে থাকবে, তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন। মহামারীতে তিনি মারা যান অথবা না-ই মারা যান।
হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার:
2. If a cough or sneeze sneaks up on you and no tissue is available, cough or sneeze into your upper sleeve. This prevents your hands becoming contaminated with cold or flu viruses.
২) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, “যখন তোমাদের কারো হাই আসে, তখন সে যেন নিজের হাত দ্বারা মুখ বন্ধ করে রাখে। নতুবা শয়তান তার মুখের ভিতরে চলে যায়। (মুসলিম, হাদিস নং-২৯৯৫)

মহামারিতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসুল (দ.) এর ভাষায় মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিও শহীদ।
১) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (দ.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহীদ- মহামারিতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহীদ হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)
২) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, মহামারিতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৩০)
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (দ.) পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর পূর্বে সেগুলোর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য।
১) নবীজি (দ.) বলেন, ‘পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করো। জীবনকে মৃত্যু আসার আগে, সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার আগে, অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার আগে, যৌবনকে বার্ধক্য আসার আগে এবং সচ্ছলতাকে দারিদ্র্য আসার আগে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৮/১২৭; সহিহুল জামে, হাদিস : ১০৭৭)
২) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমার ওপর তোমার শরীরেরও অধিকার রয়েছে।“ (বুখারি, হাদিস : ১৯৬৮)
২) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রা.) থেকে। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্রকে পছন্দ করেন। আল্লাহ পরিচ্ছন্ন। তিনি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। আল্লাহ মহৎ, তিনি মহত্ব পছন্দ করেন, আল্লাহ বদান্য, তিনি বদান্যতা পছন্দ করেন। অতএব তোমরা তোমাদের (ঘরের) উঠোনগুলো পরিচ্ছন্ন রাখবে। (তিরমিজি, হাদিস নং: ২৭৯৯)
৩) রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যদি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তবে সে হাতে দুই বা তিনবার পানি ঢেলে তা পাত্রে ঢুকাবে, কারণ সে জানে না তার হাত কোন কোন স্থানে রাত কাটিয়েছে। (তিরমিযি, আবু দাউদ, নাসাঈ)
১) Nominal Muslim (নামে মাত্র মুসলমান)
২) Practicing Muslim (প্রকৃত মুসলমান)