
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১৬:২৭

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বারবার রক্তপাতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, সীমান্তে মানুষ হত্যা আর কতদিন চলবে, এই রক্তপাত কবে বন্ধ হবে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাখাওয়াত হোসেন সঞ্চালনা করেন এবং সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার কবীর হোসেন।
রিজভী বলেন, শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, ভারতের সাধারণ মানুষও সমর্থন করে না। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সীমান্তে সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তাহলে দিল্লিকে সহিংস মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারতের নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয় হলেও সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো নির্মাণে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পেশাকে অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই। নানা আলোচনা-সমালোচনা এলেও নিজেদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। জনগণ এমন নেতৃত্বই চেয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও উন্নয়নের নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভী।