কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় শত বছরের পুরনো নারায়নপুর খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খালের উপর মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব ভবন, টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি ও বর্জ্য ফেলার ভাগার নির্মাণের কারণে খালটির নাব্যতা নষ্ট হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর করিম সরকার বাড়ির মসজিদের পাশের নারায়নপুর খালে। পরিবেশ, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালটি গোমতী নদীর নারায়নপুর-আব্দুল্লাহপুর স্লুইজগেইট সংলগ্ন মরা নদীর অংশ এবং মৃতপ্রায় বুড়ি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা খাল। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট প্রশস্ত এ খাল নারায়নপুর, আব্দুল্লাহপুর, ওয়াহেদপুর, জীবনপুর, কাবিলপুর, রামনগর, শিবনগর ও গুঞ্জর গ্রামের কয়েকশ একর কৃষিজমি ও মৎস্য আহরণের প্রধান পানিপ্রবাহ পথ।
স্থানীয় কৃষক আয়ুব সরকার বলেন, খালের ওপর মসজিদের বাথরুম, টয়লেটের ট্যাংকি, পাশের বাড়ির সেফটি ট্যাংকি এবং চারতলা মক্তবখানার ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
কৃষক মো. শাহজাহান সরকার অভিযোগ করেন, সরকার যখন খাল খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে কৃষি ও দেশীয় মাছ উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে, তখন একটি মহল ধর্মীয় উন্নয়নের অজুহাতে সরকারি খাল দখল করছে। টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি খালে পড়ায় পানি দূষণও বাড়ছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী সাহেব আলি বলেন, প্রবাসী সন্তানদের পাঠানো অর্থে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। ভালো-মন্দ বুঝে নয়, এলাকার লোকজনের সিদ্ধান্তেই কাজ চলছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না, তদন্ত করে দেখা হবে। ইউএনও রাকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।