
প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২৯
কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের হিড়িক থামছে না। এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কাজের জন্য ‘প্রশিক্ষণ কোর্সে’ ১০০ জন যাবেন ফিলিপাইন। একই প্রকল্পের আওতায় ‘শিক্ষা সফরের’ জন্য আরও ৩০ জন যাবেন ইউরোপের কোনো এক দেশে। শুধু তাই নয়, এ উদ্দেশ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পে বিভিন্ন খাতে মাত্রাতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের জন্য দুই সেট আকাশযান (ড্রোন) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা।
সার্ভার কম্পিউটারের জন্য মন্ত্রণালয়ের চলমান অন্য প্রকল্পের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। অন্যান্য মেশিন ক্রয়ের ব্যয়ও দ্বিগুণ ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের আওতায় নিজেদের বিদেশ ভ্রমণ নিশ্চিত করে এসব ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা কমায়নি। তবে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, বিদেশ সফরের বিষয়ে কঠোর হওয়ার সময় এসেছে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে হবে। শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্স সংশ্লিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানে হবে তা আগেই নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি ব্যাচে অবশ্যই ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি রাখতে হবে। আর ডিজিটাল ভূমি জরিপের অভিজ্ঞতা নিতে পরিকল্পনা কমিশনের ৫ জন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ৫ জন, জরিপ অধিদপ্তরের ৫ জন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৫ জন অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব কর্মকর্তা আলোচনা সাপেক্ষে ‘উপযুক্ত’ দেশে এক সপ্তাহের ‘শিক্ষা সফর’ করবেন। এজন্য ডিপিপিতে টেবিল আকারে খাতভিত্তিক বরাদ্দ দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত ‘টোটাল স্টেশন’ ও ‘জিএনএসএস মেশিন’ স্থাপনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের চলমান আরেকটি প্রকল্পের চেয়ে দ্বিগুণ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সার্ভার কম্পিউটার বাবদ ১৩ গুণ বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। দুটি ড্রোন কেনার জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যদিও ২০১৬ সালে এই কনফিগারেশনের ড্রোনের বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ডিপিপিতে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি পিইসি সভায় জানান, বর্তমানে এর দাম বেড়েছে।