মৌলভীবাজারে ‘বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ’ নামে দেশের প্রথম পাখি উদ্যানটি অল্প সময়েই দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গত পাঁচ দিনে এখানে রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব এ পার্কে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যাত্রা শুরু করা এই পার্কটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত। এক সময় নির্জন ও জনমানবহীন এই গ্রামটি এখন প্রাণ-প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হাওরসংলগ্ন এই এলাকায় প্রতিদিন দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে পরিবেশ।
প্রায় সাড়ে ছয় একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন অভ্যর্থনা ভবন, রেস্টুরেন্ট, কৃত্রিম ঝরনা, রঙিন মাছের পুকুর, বার্ড লার্নিং জোন, ইল্যুশন মিউজিয়াম, ঈগল পয়েন্ট, কিডস জোন, লেক ও নৌকা চালানোর সুবিধা, ঝুলন্ত সেতু, ছবি তোলার কর্নারসহ নানা আকর্ষণ। পাশ্চাত্য নকশায় নির্মিত একটি মসজিদও রয়েছে পার্কের ভেতরে।
এ পার্কে গোল্ড ম্যাকাও, ব্ল্যাক সোয়ান, সালফার ক্রেস্টেড কাকাতুয়া, গ্রে পেরটসহ প্রায় ৭০টির বেশি বিদেশি পাখির সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া উটপাখি, গিনিপিগ, খরগোশ, চিত্রা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীও রয়েছে এখানে।
প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কে জারুল, হিজল, শিমুলসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট এলাকায় পাখি ছুঁয়ে দেখা ও কাঁধে নিয়ে ঘোরার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
পার্কটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, বিদেশের বার্ড পার্ক দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। জেলার পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করা এবং পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকা এই পার্কে প্রবেশ ফি জনপ্রতি ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।