থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই তাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, জাতির প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকারের মনোযোগ বিশেষভাবে কেন্দ্রীভূত। ইউনূস তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনগণের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ নয় মাস ধরে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, কিন্তু গত দেড় দশকে তারা বারবার বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, গণতন্ত্রহীনতা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ সমাজ এক জাগরণ তৈরি করেছে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষের জীবন গেছে এ সংগ্রামে। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তরুণরাই।
ইউনূস জানান, সরকারের ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এই কমিশনগুলোর কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, সেই ছাত্রনেতারাই তাকে নেতৃত্ব গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন। জনগণের স্বার্থে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানান এবং এ সময়ে জনগণের পাশে থাকাই তার অঙ্গীকার।
বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইউনূস জানান, এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটি তার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। তিনি থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিমসটেক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোয় ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর কেবল দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, তা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সংহতির অংশ হয়ে উঠবে। বিমসটেককে সামনে রেখে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির কথা তুলে ধরেন ইউনূস।
বক্তব্যের শেষে ইউনূস বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের নেতৃত্বে সচিবালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জোট আরো কার্যকর হয়ে উঠবে।