
প্রকাশ: ২ মে ২০২২, ২২:৪৯

ঈদ জামাতের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে রাজধানীর ঈদগাহ ও মসজিদগুলো। মঙ্গলবার (০৩ মে) সকাল ৭টা থেকে শুরু করে নানা সময়ে ধাপে ধাপে ঈদ জামাত চলবে।
ঈদ জামাতে প্রস্তুত রাজধানীর ঈদগাহসহ মসজিদগুলো
এদিকে মুসলমানদের বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিশাল প্যান্ডেল টাঙিয়ে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ফ্যান-লাইটের ব্যবস্থা।
হঠাৎ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে টাঙানো হয়েছে বর্ষানিরোধক শামিয়ানা এবং বিছানো হয়েছে কার্পেট। ভিআইপিদের জন্য ছাড়াও নারী ও পুরুষদের জন্যও আলাদা দুটি গেট থাকছে। আছে পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও।
নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারসহ সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ইতোমধ্যে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুসল্লিরা জায়নামাজ আর ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না ময়দানে। জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের একটিমাত্র জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।
বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে:
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বরাবরের মতো এবারও রোজার ঈদে পাঁচটি জামাত হবে; প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। তাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
এরপর সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা এবং বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় ঈদগাহের বদলে প্রধান ঈদ জামাত হবে বায়তুল মোকাররমে।
ঢাকায় অন্যান্য জামাত:
এর আগে রোববার পুলিশ কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে ঈদগাহ ও মসজিদ মিলিয়ে ১ হাজার ৪৬৮টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

আজিমপুর ছাপড়া মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। ধানমন্ডির এলিফ্যান্ট রোডের তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ধানমন্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ঈদগাহ মাঠ মসজিদে ৮টায় এবং সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হবে।
তাকওয়া মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ধানমন্ডি থানার ওসি মো. ইকরাম আলী। পুরান ঢাকার লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হবে। আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে চারটি জামাত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৮টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের পূর্ব পাশের মাঠে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আজিমপুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সোয়া ৭টায় বুয়েটের খেলার মাঠে ঈদ জামাত হবে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ-সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিরা এ জামাতে অংশ নেবেন।
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টায়, সকাল সাড়ে ৭টায় এবং ৯টায় হবে তিনটি ঈদ জামাত। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মারকাজুল ফিকহিল ইসলামী মসজিদে সকাল ৭টায়, সি ব্লকের উম্মে কুলসুম জামে মসজিদ সকাল সোয়া ৭টায়, এফ ব্লকের জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, জি ব্লকের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ সকাল ৮টায়, এন ব্লকের ফকিহুল মিল্লাত জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় হবে ঈদের জামাত।
আরামবাগ দেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৮টা এবং সাড়ে ৯টায় দুটি ঈদ জামাত হবে।
দারুস সালামের মাদবর বাড়ি জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা এবং সকাল ৯টায় দুটি জামাত হবে। মিরপুর ১২ নম্বরে হারুন মোল্লাহ ঈদগাহে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকবে ৫০০ মোবাইল টিম। মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত টহল দলও। বৃদ্ধি করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।