প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৭

ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক থেকে সরে আসতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ওয়াশিংটনের চাপ কিংবা নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক পরিবর্তন করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মস্কো।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অবস্থান তুলে ধরেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রাশিয়া নিজের অংশীদার ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
রুশ সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, ইন্টারফ্যাক্সের বরাতে দেওয়া প্রতিবেদনে পেসকভের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর নতুন ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তেহরানকে সহায়তা না করার আহ্বান জানান।
বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা না দেওয়াই চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থানের মধ্যেই রাশিয়া নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিতে বাইরের চাপের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। পেসকভ বলেন, রাশিয়ার নিজস্ব অংশীদার রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই মস্কো এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চাপ এলেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মস্কো নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে।
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রকাশ্য সমর্থন ইরানকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় কূটনৈতিকভাবে কিছুটা শক্ত অবস্থান দিতে পারে। একই সঙ্গে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।