প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫

আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় নিয়োগের খবর নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করেন মালয়েশিয়ার সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল। তিনি জানান, আলোচিত সংখ্যার কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বক্তব্য।
ফাহমি বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তাকে জানানো হয়েছে, দুই লাখ কর্মী নিয়োগের তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ফলে এ বিষয়ে এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে খবরটি বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিমন্ত্রী ওই তথ্য সাংবাদিকদের জানান। এরপর খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়।

তবে মালয়েশিয়া সরকারের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী নিয়োগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত এমন কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি, যা দুই লাখ কর্মী নিয়োগের ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করে।
এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে শরণার্থী প্রত্যাবাসন নিয়েও কথা বলেন ফাহমি ফাদজিল। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন শরণার্থী নথিতে স্বাক্ষর করে মিয়ানমারে ফেরার সম্মতি দিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের হেফাজতে থাকা ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমার শরণার্থীর মধ্য থেকে পাঁচ হাজার জনের তালিকা দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার দূতাবাসে পাঠিয়েছে বলেও জানান ফাহমি। তবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।