ইন্টারমিডিয়েট পাস করার আগ পর্যন্ত মাগরিবের আজানের পর ঘর থেকে বের হতে পারতেন না বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তখন বিষয়টি যন্ত্রণা মনে হলেও এখন মায়ের সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, জুনিয়র বৃত্তি-২০২৫-এ বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পাসের আগে মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে পড়ার টেবিলে বসতে হতো। তাঁর মা সন্ধ্যার পর বাইরে যেতে দিতেন না। সেই সময় সেটিকে কষ্ট মনে হলেও বর্তমানে তাঁর উপলব্ধি, মা যা করেছিলেন সেটিই সঠিক ছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, জীবনে সাময়িক আনন্দ ও সাময়িক কষ্টের মধ্যে সঠিকটি বেছে নিতে হবে। পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে মোবাইল ব্যবহার, বন্ধুদের সঙ্গে অযথা আড্ডা এবং ক্লাসে অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক আনন্দ দিলেও ভবিষ্যতে এর ক্ষতিপূরণ করা কঠিন। অন্যদিকে নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাসের কাজ শেষ করা এবং অযথা সময় নষ্ট না করার কষ্ট ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এনে দেয়।
তিনি বলেন, যারা ছাত্রজীবনে এই সাময়িক কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিচারক বা অধ্যাপক হয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ক্ষণিকের আনন্দ বেছে নেবে, নাকি ভবিষ্যতের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য।
শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে হাসনাত বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে জ্ঞান অর্জন করে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক সালমা জামান পপি ও শাহিন আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর এবং দেবীদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহিন মিয়া।