প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৩

বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি)। এই সংযোগ প্রকল্পটির কমিশনিং কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনাকারী জিই ভার্নোভার মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
চুক্তির আওতায় রূপপুরের দুই ইউনিটের আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ও তথ্য এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
প্রকল্পের পরিচালক ড. কবির হোসেন রূপপুরের পক্ষে এবং জিই ভার্নোভার প্রতিনিধি দেবেশ ঝা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে এই প্রযুক্তিগত সমন্বয় কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই সংযোগের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হবে।
রূপপুরের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, স্কাডা সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগের ফলে কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের মধ্যে সমন্বিত পরিচালনা আরও কার্যকর হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।
অনুমোদন পাওয়ার পর প্রথম ইউনিটে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে কেন্দ্রটি। কর্মকর্তাদের মতে, উৎপাদনের আগেই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া রূপপুর প্রকল্পের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অর্জন।