প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২১

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে তদন্ত দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটি অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করবে।
দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নাম রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে বেআইনি কাজ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর বিষয়ও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার ও বিটকয়েনের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে দুদকে বিভিন্ন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ক্রিকেট বোর্ডের গঠন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তার প্রভাব ছিল কি না, অনুসন্ধানে তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।