প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৪

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ, বসবাস এবং বিভিন্ন ধরনের ভিসা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে ২০২৬ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এসব নিয়মে পর্যটক, প্রবাসী, সম্পত্তি বিনিয়োগকারী এবং চিকিৎসাসেবার জন্য আগ্রহী বিদেশি নাগরিকরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে সীমিত সংখ্যক দেশের নাগরিকরা এ সুবিধা পেলেও এখন আরও কয়েকটি দেশের নাগরিককে ১৪ ও ৬০ দিনের প্রবেশ ভিসার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্য আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
পর্যটকদের জন্যও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। অনুমোদিত পর্যটন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করলে দুবাই ভ্রমণের এককালীন প্রবেশ ভিসা এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা আগের তুলনায় আরও সহজ হবে।
আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুই বছরের আবাসন অনুমতির ক্ষেত্রে পূর্বের নির্ধারিত ন্যূনতম সম্পত্তি মূল্যের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রত্যেক অংশীদারের নির্দিষ্ট পরিমাণ মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া বিদেশিদের জন্য দেওয়া জরিমানা মওকুফের সুবিধাও শেষ হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসার বৈধতা নবায়ন অথবা দেশ ত্যাগ না করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসাসেবা নিতে দুবাইয়ে আসা বিদেশিদের জন্য চালু করা হচ্ছে স্মার্ট মেডিকেল ভিসা ব্যবস্থা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা, আবাসন অনুমতি এবং স্বাস্থ্যসেবা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে রোগীরা চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় আরও দ্রুত ও সহজ সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা আক্রান্ত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ভিসা নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ বা বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে নতুন নিয়মগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জানা জরুরি।