
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ২২:১৫

বাংলাদেশের সম্ভাব্য চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয় এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। এ সময় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার প্রতিবেশী অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিস্থিতির ওপর সব সময় নিবিড় নজর রাখে। প্রয়োজন দেখা দিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহযোগিতা প্রসঙ্গে ভারতীয় মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন সহায়তা দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং এসব প্রকল্প নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা প্রকল্প সম্পর্কে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা ইস্যুকে ঘিরে যেকোনো নতুন পরিস্থিতি বা অগ্রগতি ভারতের সামগ্রিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ বিষয়টি নিয়ে দিল্লি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।

এদিকে সম্প্রতি চীন সফর শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের এই কূটনৈতিক অবস্থানকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ঘিরে ভবিষ্যতে তিন দেশের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।