
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ২১:১৯

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রায় ১০ কোটি টাকার গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় আড়াই হাজার পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্বল তদারকির কারণেই প্রকল্পটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২১ সালে শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলায় এর অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ২০২৩ সালে প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেবি) কাজের দায়িত্ব পেলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
প্রকল্পের আওতায় সদর ও রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৭৬টি পাইপলাইনভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৮টির মধ্যে মাত্র ২২টিতে আংশিক কাজ হয়েছে। অন্যদিকে রাজনগর উপজেলার ৩৮টি প্রকল্পের অধিকাংশের কাজই শুরু বা শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে রাজনগরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা এমন কোনো প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে অবগতই নন। সদর উপজেলার চাঁদনিঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহল এলাকায় আংশিক নির্মিত একটি প্রকল্পে উপকারভোগীদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করে মোটর, পাইপ ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মালাকার জানান, প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করে তারা নিজেরাই পানির লাইন সচল করেছেন। তার অভিযোগ, নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করায় কয়েক দিনের মধ্যেই তা ফেটে যায় এবং প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম সরবরাহই করা হয়নি। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকেই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মচারীর ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক মো. তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশের আরও কয়েকটি স্থানে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে। নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও বিলম্বের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।