প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪৩

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এই বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই আলোচনায় কাতারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব সমঝোতা বা অগ্রগতি হবে, সেগুলোর বাস্তবায়নে সহায়তা করতে ইসলামাবাদ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকেও তারা সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে এই বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। স্থানীয় সময় রোববার তিনি দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

যাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভ্যান্সের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। উত্তেজনার মাত্রাও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, পারমাণবিক ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও কাতারের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।