প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৫

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে কূটনৈতিক চাপই বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।
ভাষণে তিনি বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো ফ্রন্টে হামলার নৈতিক বা আইনি অধিকার ইসরায়েলের নেই। এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলাই ইরানের অগ্রাধিকার। এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য পাকিস্তান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি এবং বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরমাণু অস্ত্র প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে হাঁটেনি এবং ভবিষ্যতেও সে পথে যাবে না। তার ভাষায়, ইরান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা চায়, কোনো সংঘাত নয়।
তিনি আরও বলেন, তেহরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো চাপের মুখেই ইরান তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তার অভিযোগ, পরিকল্পিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা পুরো অঞ্চলকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার ভূমিকার একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সংযম ও আলোচনার পথেই এগোনো জরুরি।