প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৯

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর ইরানে সামরিক হামলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তবে অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
শুক্রবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কেরি বলেন, তিনি নিজে এমন বেশ কয়েকটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালানোর আহ্বান জানান। বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার টেবিলে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেরির ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছেও উপস্থাপন করেছিলেন। একইভাবে জো বাইডেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনও এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানায়নি।
তবে কেরি দাবি করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিলেন। তার সময়েই ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেরি আরও জানান, নেতানিয়াহু ইরানে হামলার পক্ষে একটি বিস্তারিত চার দফা পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। এতে বলা হয়, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই মতবিরোধ ছিল বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থাকায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অভিযান চালায়। এতে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই ঘটনার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
পরবর্তীতে কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং দীর্ঘ সংঘাতের পর আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনোর উদ্যোগ নেয়।