প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২১

মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের সর্বশেষ মূল্যায়নে উঠে এসেছে, তেহরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র পাহাড়ের নিচে নির্মিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন বাঙ্কারে সংরক্ষণ করে রেখেছে। ফলে প্রচলিত বিমান হামলায় এসব অস্ত্র ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের কাছে প্রায় আড়াই হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে এক হাজারেরও বেশি এখনো কার্যক্ষম অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যেখানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘চূর্ণ’ হওয়ার দাবি করছে, সেখানে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তারা বলছেন, ইরানের মূল সামরিক শক্তি এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তারা মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুড়ঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ভেতরে থাকা লঞ্চার ও সমরাস্ত্রগুলো পুরোপুরি অকেজো করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো থেকে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পুনরুদ্ধার ও মেরামতের চেষ্টা করছে। এতে ভবিষ্যতে আবারও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের অর্ধেকের বেশি লঞ্চার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের হাতে এখনো হাজার হাজার স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন সক্ষমতাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

এদিকে মার্কিন বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই সময়টিকে তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।