প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসনের দাবি তুলেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পরিস্থিতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনেনি। বরং তার মতে, এই ঘোষণার আড়ালে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানকে ঘিরে কঠোর হুমকি দেন, যেখানে তিনি একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় এবং কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করে।
এর আগেও ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা কমে আসছিল। বিশাল অঙ্কের সামরিক ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এছাড়া তার শাসনব্যবস্থা ও বিতর্কিত আইন প্রণয়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। এই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সম্প্রতি ‘নো কিংস’ নামে একটি বড় আন্দোলনও গড়ে ওঠে।

এই আন্দোলনে লাখো মানুষ অংশ নেয় বলে আয়োজকদের দাবি, যা সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় গণজমায়েত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ট্রাম্পবিরোধী জনমত কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ সরাসরি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বরং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।