ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা নবম দিনে গড়িয়েছে। এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরান বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করেছে, যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রিয়াদ স্পষ্টভাবে তেহরানকে জানিয়েছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে ইরান যদি সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে সৌদি আরবও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত চারটি সূত্র আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, শনিবার এই বার্তা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান যদি শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করে তবে হামলা অব্যাহত থাকবে। এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভূমিকা থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তেহরানের হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, এর দুই দিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সেখানে রিয়াদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন—যদি ইরান সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে থাকে, তাহলে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারে।