প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৬

ভারতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন যুগের সূচনা হলো। দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাত ও ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
এই টিকাটি তৈরি করেছে জাপানের বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। অনুমোদনের ফলে ভারতের স্বাস্থ্য খাতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, যা ভবিষ্যতে রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। ফলে বিভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে টিকাটির বাজারমূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য ও সরবরাহসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। প্রতি বছর আনুমানিক ১০ থেকে ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যা বিশ্ব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর দেশগুলোতে ঘটে। বিশ্বের সবচেয়ে ডেঙ্গুপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম হওয়ায় ভারতে কার্যকর টিকার অনুমোদনকে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নয়। এসব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।