
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫০

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার ধারাবাহিক দাবির মধ্যে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে সেটি দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অভিযোগগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, তা আদালতের সামনে যাচাই করা হবে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারত এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজছে, যাতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চুক্তির আওতায় অভিযোগের আইনি ভিত্তি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকলে আদালত প্রত্যর্পণ আটকে দিতে পারে।
বাংলাদেশ মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়কে ভিত্তি করে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আসছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থার সময় দেওয়া রায়ের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে তার প্রত্যাবর্তন কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে আছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর থেকে তার প্রত্যর্পণের দাবি নিয়ে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আবারও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান এখন আদালতকেন্দ্রিক। ফলে বাংলাদেশের অনুরোধের পর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়াই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, সেটিও দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।