
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৭

জামালপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে ইসমাইল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে জানতে পেরে বাসের কর্মীরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, ইসমাইল হোসেন জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে বাসে উঠেছিলেন। পথে লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেওয়ার সময় বাসের সুপারভাইজার বিষয়টি লক্ষ্য করেন।
পরে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯) মিলে ইসমাইলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যে না নামিয়ে বাসের মধ্যেই ইসমাইলের হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরে লাশটি রাজধানীর বনানী এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। এছাড়া গলায় কালো দাগও দেখা যায়। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তার নাম ইসমাইল হোসেন। পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও হত্যার পেছনের অর্থ লুটের বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে।