প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৪

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। একই অভিযানে তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ডেভিড ইমনের পাশাপাশি আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীম নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সহায়তা করে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইমনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানের সময় তার সহযোগীরাও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডেভিড ইমনকে নিরাপত্তার সঙ্গে সড়কপথে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায়ও ইমন অন্যতম আসামি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের হুমকি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম উঠে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে অবস্থান করায় বর্তমানে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন ডেভিড ইমন। আরেক সহযোগী মোহাম্মদ রায়হানকে নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এর আগে একই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর এক্সেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনায়ও সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার আগে ডেভিড ইমনের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ওই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।