
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি বাটন ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মটরা গ্রামের চাঁন মিয়া (৫৪) ও হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।
পুলিশ জানায়, বিকাশ প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, চাঁন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ভাঙ্গার মটরা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে নিজ বসতবাড়ি থেকে হাফিজুল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখের (৫৬) মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁর ছেলে মো. হুসাইন শেখ ও তাঁর দুই বন্ধুকে মাদকসহ আটক করার দাবি করেন।

একপর্যায়ে কথিত ডিবি সদস্যরা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছেলেকে ছাড়াতে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। ভয় পেয়ে মোন্নাফ শেখ প্রতারকদের দেওয়া একটি ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠান।
পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, তাঁর ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।