প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৪

আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তাঁদের একজন জানান, হুথি এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ওই দেশগুলোর কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।
আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরব বর্তমানে দেশটির সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং বিভিন্ন তেল স্থাপনা রক্ষায় বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা ধরে রাখা রিয়াদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এদিকে সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় রিয়াদের অনুরোধ পূরণে সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিরা ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। মক্কাকে তারা ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। ইয়েমেন সীমান্ত থেকে মক্কার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে বলেও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও অবকাঠামো হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা বাড়াতে দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। তবে সরাসরি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে।