প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৫

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই একটি পুরোনো আয়রন ব্রিজের লোহার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা না করেই সেতুর অংশ খুলে ফেলায় সাতুরিয়া ইউনিয়নের চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত শুক্রবার উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় এদবর খালের ওপর থাকা সেতুটির বীমসহ বিভিন্ন লোহার মালামাল সরানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীরা প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করতেন। সেতুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই মানুষ পারাপার করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে সেতুর বীম ও লোহার অংশ খুলে নেওয়া শুরু হলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তারা বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা মালামালের তালিকা তৈরি করেন। পরে মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মামুন আকন বলেন, পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য তিনি সেতুর মালামাল তুলেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের অনুমতি নিয়েই কাজটি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে মালামাল সরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সামাজিক কাজের কথা উল্লেখ করেন।

তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু বলেন, তিনি কাউকে সেতুর বীম বা মালামাল খুলে নেওয়ার অনুমতি দেননি। তার ভাষ্য, সেতুর মালামাল সরাতে হলে পরিষদের রেজুলেশন এবং মানুষের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই এ ধরনের কাজ করার নিয়ম রয়েছে।
রাজাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম জিয়াউল হক বলেন, মালামাল সরানোর আগে তাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিজার লিস্ট করেছেন এবং মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরিও বিষয়টি জেনে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এদিকে, দ্রুত সেতুটি পুনঃস্থাপন অথবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করে চার গ্রামের মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।