
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১

মানুষের জীবনে ভুল, মতবিরোধ ও মনোমালিন্য স্বাভাবিক বিষয়। তবে ইসলাম মানুষকে প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা, ধৈর্য ও উদারতার শিক্ষা দিয়েছে। কোরআন ও হাদিসে অন্যকে ক্ষমা করার মর্যাদা এবং এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ এই আয়াত একজন মুমিনকে রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং অন্যের ভুল ক্ষমা করে দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
ক্ষমা করা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তিই একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা প্রকাশ করে। কেউ অন্যায় করলে তার প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়া ইসলামের অন্যতম সুন্দর মানবিক শিক্ষা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ জীবনেও ক্ষমার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। যারা তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের অনেককেই তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করেছেন। তাঁর চরিত্রে দয়া, সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা ছিল মানুষের হৃদয় জয় করার অন্যতম কারণ।

বর্তমান সমাজে পারিবারিক বিরোধ, প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক কিংবা ব্যক্তিগত অভিমান থেকে অনেক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। সামান্য ভুলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘটনাও দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামের ক্ষমাশীলতার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যকে ক্ষমা করার পাশাপাশি নিজের ভুল স্বীকার করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একজন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে তওবা করার পাশাপাশি যার প্রতি অন্যায় করেছে, তার কাছেও ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ক্ষমাশীলতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি তৈরি হয়। পরিবারে ক্ষমার চর্চা থাকলে সম্পর্ক দৃঢ় হয়, আর সমাজে এর চর্চা বাড়লে সংঘাত ও বিদ্বেষ কমে আসে।
তাই একজন মুসলমানের উচিত রাগের সময় নিজেকে সংযত করা, অন্যের ভুল ক্ষমা করার মানসিকতা তৈরি করা এবং নিজের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে দেওয়ার এই গুণ মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই শান্তি বয়ে আনতে পারে।