
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৫

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে অল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বিভিন্ন নদী, ছড়া ও পাহাড়ি জলধারার পানি দ্রুত বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের পর ভোরের দিকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়।
পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশও পানিতে ডুবে গেছে। এতে ওই পথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে আমনের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও পায়নি বলে জানা গেছে।
মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নদী ও ছড়ার পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজীল আহম্মেদ জানান, ভারী বর্ষণের কারণে মাইনী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এতে সদর ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদী ও ছড়ার তীরবর্তী এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি ঢলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক যোগাযোগে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।